1. newsroom@saradesh.net : News Room : News Room
  2. saradesh.net@gmail.com : saradesh :
ভুঁইফোঁড় সংগঠন বিএনপিতেও - সারাদেশ.নেট
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন

ভুঁইফোঁড় সংগঠন বিএনপিতেও

  • Update Time : বুধবার, ৪ আগস্ট, ২০২১

বিশেষ প্রতিবেদক:
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মতো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নাম ব্যবহার করেও গড়ে উঠেছে অসংখ্য ভুঁইফোঁড় সংগঠন। জাতীয়তাবাদী সমর্থিত এমন অর্ধশত সংগঠনের অস্তিত্ব রয়েছে।।

সংগঠনগুলোর পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধেও রয়েছে চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ। ২০০৯ সালের পর থেকেই এ ধরনের সংগঠনের উত্থান ঘটে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর এসব সংগঠনের দৌরাত্ম্য কমতে শুরু করে। আর করোনা মহামারি শুরুর পর তাদের কোনো কর্মকাণ্ড এখন প্রকাশ্যে দেখা যায় না। জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ নানা নামে গড়ে ওঠা এসব ভুঁইফোঁড় সংগঠনের দৌরাত্ম্য। তবে এ নিয়ে সতর্ক বিএনপি। কয়েকটি সংগঠনের নাম উল্লেখ করে তাদের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই বলেও বিভিন্ন সময়ে জানানো হয়েছে। নেতাকর্মীদের ওইসব সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখতেও বলা হয়। এসব ভুঁইফোড় সংগঠনের অনুষ্ঠানে অংশ না নিতে নেতাদের বারবার মৌখিক নির্দেশ দেয়া হয়। যদিও এসব ভুঁইফোঁড় সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্টানে বিএনপির অনেক নেতাকে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিভিন্ন অনুষ্টানে অংশ নিতে দেখা গেছে। সম্প্রতি শহীদ জিয়া ছাত্র পরিষদ নামে একটি সংগঠন বিষয়ে সতর্ক করেছে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের দলে ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে। এর বাইরে দলের নাম ব্যবহার করে অনেক সংগঠন গড়ে উঠেছে। কিন্তু বাস্তবে এসব সংগঠনের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের কর্মকাণ্ডে অনেক সময় দল ও সংগঠনকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতেও পড়তে হয়। তাই নেতাকর্মীদের এসব ভুঁইফোঁড় সংগঠন সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। সবাই সতর্ক থাকলে তারা সুবিধা করতে পারবে না।’

ভুঁইফোঁড় এসব সংগঠনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বেশির ভাগই বিএনপি সমর্থিত বলে চিহ্নিত। চাঁদাবাজির পাশাপাশি বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে তারা একটা সখ্য গড়ে তোলেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এসব ভুঁইফোঁড় সংগঠনের কয়েকজন বিএনপিতে পদও বাগিয়ে নেন। এমনকি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অনেকে পদ বাণিজ্যও করেন। ভুঁইফোঁড় সংগঠনগুলোর মধ্যে ৩৮টি সংগঠন মিলে ‘বিএনপির সহযোগী সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ গঠন করেছিল ২০১৪ সালের আগস্টে। সেই সময় তারা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়ার দাবি জানান। কিন্তু বিএনপি তাদের অনুমোদন দেয়নি। সে অপচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তারা বিভিন্নভাবে নিজেদেরকে সামনে আনার চেষ্টা করেছে; কিন্তু সেভাবে সুবিধা করতে পারেনি।

বিএনপি বা দলের শীর্ষ নেতাদের নাম ব্যবহার করে কোনো সংগঠন করা যাবে না বলে বারবার সতর্ক করে দলটি। কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখতেও বলা হয়। এসব ভুঁইফোঁড় সংগঠনের দৌরাত্ম্য বাড়তে থাকায় দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একাধিকবার সংবাদ সম্মেলনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখতে নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানান। ২০১২ সালে ১৩ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তত ৪০টি সংগঠনের নাম উল্লেখ করে সেগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানানো হয়। এমনকি ‘জাতীয়তাবাদী তরুণ দল’ নামে একটি সংগঠনের ব্যাপারে সতর্ক করতে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপনও দেয়া হয়। একইভাবে ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল জিয়া-খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে ভুঁইফোঁড় সংগঠন গড়ে তোলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় বিএনপি। ওই সময় ‘তারেক জিয়া সেবা ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংগঠনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি ‘শহীদ জিয়া ছাত্র পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন নিয়ে বিব্রত অবস্থায় পড়ে দলটি। ছাত্রদল তাদের ব্যাপারে হাইকমান্ডের কাছে অভিযোগ করে।

সোমবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ওই সংগঠনের সঙ্গে বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা লক্ষ করছি, ‘শহীদ জিয়া ছাত্র পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে জানানো যাচ্ছে, সংগঠনটির সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক বা সংশ্লিষ্টতা নেই। সংগঠনটি বিএনপির অধিভুক্ত কোনো সংগঠন নয়। বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি বিভ্রান্ত না হতে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

তবে কিছু পেশাজীবি সংগঠনকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে বিএনপি। বিশেষ করে চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব, কৃষিবিদদের সংগঠন এ্যাবসহ কয়েকটি পেশাজীবী সংগঠন দলের অঙ্গসংগঠনের মর্যাদা না পেলেও দলীয় সমর্থন পেয়ে আসছে। দলের যে কোনো কর্মকাণ্ডে এসব পেশাজীবীর উপস্থিতিও লক্ষ করা যায়। এমনকি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন সময়ে এসব সংগঠনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবেও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপির থিঙ্কট্যাংক হিসাবে ‘জি- নাইন’ (গ্রুপ-২০০৯) ও ‘শত নাগরিক কমিটি’কে সমর্থন দিয়ে আসছে দলটির হাইকমান্ড।

বিএনপির নাম ব্যবহার করে যেসব ভুঁইফোঁড় সংগঠন গড়ে উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক একাডেমি, সম্মিলিত সমন্বয় পরিষদ, জিয়া নাগরিক ফোরাম, জিয়া আদর্শ একাডেমি, তৃণমূল দল, জিয়া সেনা, স্বদেশ জাগরণ পরিষদ, দেশনেত্রী সাংস্কৃতিক পরিষদ, জিয়া স্মৃতি সংসদ, চেতনায় ৭১, সচেতন নাগরিক ফোরাম, চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ, নাগরিক অধিকার সোসাইটি, গণতান্ত্রিক ঐক্য ফোরাম, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোট, জাগ্রত জনতা ফোরাম, নাগরিক পরিষদ, হৃদয়ে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম, জিয়া নাগরিক সংসদ, স্বদেশ মঞ্চ, জিয়া ব্রিগেড, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সেবা দল, জাতীয়তাবাদী বন্ধু দল, সমবায় দল, জাতীয়তাবাদী দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন, জিয়া ন্যাশনালিস্ট ফোরাম, বাংলাদেশ মানবাধিকার ফোরাম, জাতীয়তাবাদী বাউল দল, জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী কল্যাণ পরিষদ, খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদ, তারেক রহমান মুক্তি পরিষদ, তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সংগ্রাম পরিষদ, শহীদ জিয়াউর রহমান আদর্শ বাস্তবায়ন পরিষদ, জাতীয়তাবাদী কৃষি আন্দোলন প্রমুখ।

এমএম/কেকে//

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *