1. newsroom@saradesh.net : News Room : News Room
  2. saradesh.net@gmail.com : saradesh :
ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা সংক্ষেপে ভিপিএন এখন বেশ আলোচিত, কেন ? - সারাদেশ.নেট
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা সংক্ষেপে ভিপিএন এখন বেশ আলোচিত, কেন ?

  • Update Time : সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১

তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক:
ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা সংক্ষেপে ভিপিএন এখন বেশ আলোচিত। তবে কিভাবে এটি কাজ করে, কী কাজের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল কিংবা বাংলাদেশে ভিপিএন ব্যবহার বৈধ কি না—এসব বিষয়ে সবার ধারণা পরিষ্কার নয়। এর ব্যবহারের বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা এবং বেশ কিছু জনপ্রিয়, দ্রুতগতির ও বিশ্বস্ত ভিপিএনসেবা নিয়ে এ প্রতিবেদন।

প্রায় সময়ই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ভিপিএন শব্দটির মুখোমুখি হন। বেশির ভাগ ব্যবহারকারীর ধারণা, ভিপিএন হচ্ছে একটি সেবা, যার মাধ্যমে ভিন্ন দেশের সার্ভারের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্রাউজ করা যায়। এতে সেসব দেশের অভ্যন্তরীণ সাইট ও কনটেন্ট উপভোগ করা যায়। অনেক সময় কোনো কোনো ওয়েবসাইটের কারিগরি ত্রুটির সমাধান করা যায় ভিপিএনের মাধ্যমে।

নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট

একাধিক পিসি ও সার্ভার সংযুক্ত করার মাধ্যমে তৈরি হয়ে থাকে একটি নেটওয়ার্ক। নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযুক্ত সব পিসি ও সার্ভার একে অপরের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে, ব্যবহার করতে পারে পারস্পরিক হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার। এ ধরনের নেটওয়ার্ক, যেখানে ডিভাইসগুলো একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে—এর বাইরে নয়, এটাকে বলা হয় প্রাইভেট নেটওয়ার্ক। ইন্টারনেটের শুরু হয়েছিল এমন প্রাইভেট নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে সংযোগ তৈরির মাধ্যমে, ধীরে ধীরে যা আজকের বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত অন্তর্জালে পরিণত হয়েছে।

ভিপিএনের আগমন
ধরে নেয়া যাক, একটি অফিসে রয়েছে বেশ বড়সড় একটি প্রাইভেট নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কের মধ্যকার কোনো পিসি বা সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত হতে চাইছেন এক কর্মকর্তা, কিন্তু তিনি রয়েছেন অফিসের বাইরে, যোগাযোগ করতে হচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। এ অবস্থায় চাইলে অফিসের পিসি বা সার্ভারের সেটিংস পরিবর্তন করা যেতে পারে, যাতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেগুলোতে লগইন করে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু এ পদ্ধতি অত্যন্ত অনিরাপদ, হ্যাকাররা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই লগইন পদ্ধতিগুলো ভেদ করে ডাটা চুরি করে থাকে। এ সমস্যা এড়াতেই তৈরি হয়েছে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন। অফিসের সার্ভারে চালু থাকবে ভিপিএনসেবা, যার সঙ্গে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যুক্ত হবেন কর্মকর্তারা। সার্ভার ও ব্যবহারকারীর পিসি বা ফোনের সঙ্গে যোগাযোগ ইন্টারনেটের মাধ্যমেই হবে; কিন্তু সব ধরনের ডাটা থাকবে এনক্রিপটেড, যাতে কেউ সেটি পড়তে না পারে। সংযোগ হয়ে যাওয়ার পর ব্যবহারকারীর পিসি বা ফোনকে প্রাইভেট নেটওয়ার্কের অংশ ধরা হবে। ফলে তিনি অফিসে না থেকেও তাঁর অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের সব সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। এতে যেহেতু ডাটা থাকবে এনক্রিপটেড আর শুধু সার্ভারেই চলবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগের সেবা, ফলে হ্যাকারদের কবলে ডাটা খোয়া যাওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে বহুগুণ।

ভিএপএনের বাড়তি সুবিধা
যেহেতু ব্যবহারকারীর পিসি বা ফোন অফিসের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে ভিপিএনের মাধ্যমে, তাই ইন্টারনেট ব্যবহারের সময়ও ওয়েবসাইটগুলোর সার্ভার ব্যবহারকারীর সঙ্গে অফিসের সার্ভারের মাধ্যমেই যোগাযোগ করবে। যদি অফিসের সার্ভার অন্য দেশে হয়ে থাকে, তাহলে সে দেশের জন্য যে কনটেন্ট সেগুলোই ব্যবহারকারী দেখতে পারবেন তিনি নিজে সে দেশে না থেকেও। যদি কোনো ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীর নিজ দেশে কাজ না করে, সেটিও দেখা যাবে, কেননা ব্যবহারকারীর ভার্চুয়াল অবস্থান ভিপিএন সার্ভারের দেশে। ডাটা নিরাপত্তাও ভিপিএন ব্যবহারের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব। ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় ব্যবহারকারী ঠিক কী কী কাজ করছেন, কোন ওয়েবসাইটে যাচ্ছেন বা কি কনটেন্ট দেখছেন তার প্রতিটি নথি ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী বা আইএসপি লগ করে থাকে, যা চাইলেই অন্য কারো কাছে তারা বিক্রি করে দিতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ তথ্য তারা বিজ্ঞাপন সংস্থার কাছে বিক্রি করে থাকে, যদিও অনেক সময় ব্যবহারকারীদের তথ্য অন্যান্য সংস্থাও চেয়ে বসে। ভিপিএনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করলে আইএসপি দেখতে পাবে ব্যবহারকারী একটি মাত্র সার্ভারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, বাকি সব তথ্য এনক্রিপটেড থাকায় সেগুলো তারা লগ করতে পারবে না।

ভিপিএনসেবার উত্থান
ডাটা নিরাপত্তা ও ভিনদেশি কনটেন্ট দেখার স্বাধীনতা এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল না। কিন্তু ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই দুটি কাজের জন্যই ভিপিএনের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় বেশ কিছু ভিপিএন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের উত্থান হয়েছে বিগত বছরগুলোতে। এসব সেবা অনেক সময় পাওয়া যায় বিনা মূল্যে; কিন্তু মানসম্মত ও দ্রুতগতির সেবার জন্য কিনতে হচ্ছে সাবস্ক্রিপশন। ভিন্ন দেশের সার্ভারের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের পাশাপাশি ডাটার নিরাপত্তার স্বার্থে প্রচুর ব্যবহারকারী কিনছেন সাবস্ক্রিপশন, ফোন ও পিসির পাশাপাশি অনেকে সরাসরি বাসা ও অফিসের ইন্টারনেট রাউটারেই ভিপিএন চালাচ্ছেন, যাতে নেটওয়ার্কে থাকা সব ডিভাইস ভিপিএনের আওতায় থাকে।

ভিপিএন ব্যবহারের বৈধতা
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ভিপিএন ব্যবহার শুধু বিশেষ ক্ষেত্রে বৈধ। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো তাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাজের প্রয়োজনে ভিপিএনসেবা চালু করতে পারবে। ভিপিএনসেবা প্রদানের জন্য লাগবে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী লাইসেন্স। ভিপিএন সেবা শুধু ডাটা আদান-প্রদানে ব্যবহার করা যাবে, কোনো ধরনের ভয়েস কল বা ভিওআইপি সেবার জন্য ভিপিএন ব্যবহার করা যাবে না। ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহারকারীরা ভিপিএন ব্যবহার করছে কি না তার লগ রাখবেন এবং সরকারের কাছে সেটি দাখিল করবেন। কোন আইপি ঠিকানার সার্ভারের সঙ্গে ভিপিএন সংযোগ করছে ব্যবহারকারী সেটির লগ রাখা হবে, সেই আইপিতে যে ভিপিএন সার্ভার চলছে সেটি বৈধ কি না সেটি বিটিআরসি নজরে রাখবে। প্রয়োজনে সরকার ভিপিএন টানেল যেকোনো সময় বন্ধ করে দিতেও পারবে আর সেটি অবৈধ হলে ব্যবহারকারী এবং সেবা প্রদানকারী দুই পক্ষই আইনের মাধ্যমে বিচারের আওতায় পড়বে। সরকারি আইন অনুযায়ী ব্লক করা কোনো ধরনের কনটেন্ট দেখা বা ব্যবহারের জন্য ভিপিএন ব্যবহার করা যাবে না।

ভিপিএন শুধু দাপ্তরিক তথ্য আদান-প্রদানের জন্যই ব্যবহার করা যাবে, এর বাইরে কোনো ত্রিপক্ষীয় তথ্য বা কনটেন্টের জন্য সেটি ব্যবহার করা যাবে না। ভিপিএন টানেলের প্রয়োজনীয়তা ব্যবহারকারীর আছে কি না সেটি খতিয়ে দেখার এবং প্রয়োজনে ভিপিএন সেবা বন্ধ করে দেয়ার দায়িত্ব ও ক্ষমতা আইএসপিকে দেয়া হয়েছে।


ভিপিএন সেবা ব্যবহারে সতর্কতা

ভিপিএন সেবার মূলমন্ত্রই হচ্ছে নিরাপত্তা, আর তার মূলে আছে সেবা প্রদানকারী সার্ভার। ব্যবহারকারী ও সার্ভারের মধ্যে কি তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে সেটি এনক্রিপশন ভেঙে বের করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু সেবাপ্রদানকারী সার্ভারই যদি হয় অনিরাপদ বা সেবাপ্রদানকারী যদি চায় ব্যবহারকারীদের তথ্য অসাধু উপায়ে ব্যবহার করতে, সে ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর আসলে কিছুই করার নেই। ঠিক এ কাজটাই করে থাকে বেশ কিছু ফ্রি ভিপিএন কম্পানি। ব্যবহারকারীদের তথ্য বিক্রি করে বিজ্ঞাপন সংস্থার কাছে, তাদের লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ড রেখে দেয় লগে, আর যদি কোনোভাবে ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংকের তথ্য তাদের সার্ভারের মাধ্যমে পাস হয়, তাহলে তো কথাই নেই। মজার বিষয়, অনেক সময় হ্যাকাররাই নানা ধরনের ফ্রি ভিপিএন সেবা চালু করে শুধু তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ধান্ধায়। অতএব নাম-পরিচয়হীন ভিপিএন পেলেই সেটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

জনপ্রিয় কিছু ভিপিএন সেবা

সবার শুরুতেই বলতে হয় ক্লাউডফ্লেয়ার ভিপিএনের কথা, যা ১.১.১.১ নামে পরিচিত। এটি বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যায়, সে ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী কী ওয়েবসাইট দেখছেন বা কী তথ্য দিচ্ছেন সেটি আইএসপি দেখতে পারে না। তবে বাকি সব ভিপিএন সেবার জন্য সেটির ভেতরে থাকা ইন-অ্যাপ পারচেসের মাধ্যমে সেবা কিনতে হবে। হটস্পটশিল্ড বহু বছর ধরে ব্যবহারকারীদের বিনা মূল্যে ভিপিএন সেবা দিয়ে আসছে। তার বিপরীতে ব্যবহারকারীদের কিছু বিজ্ঞাপন দেখতে হয়। তাদের সার্ভারের গতিও বেশ মন্থর, কিন্তু ডাটা লগিং ও বিক্রির রেকর্ড নেই।

একসময়ের বহুল প্রচলিত নর্ড ভিপিএন এখনো বলা যায় প্রিমিয়াম ভিপিএন সেবার মধ্যে সেরাগুলোর একটি। এ ছাড়া আছে প্রাইভেট ইন্টারনেট অ্যাকসেস, এক্সপ্রেস ভিপিএন, সার্ফশার্ক এবং অন্যান্য। যদিও এই সেবাগুলো নির্ভরযোগ্যভাবে ব্যবহার করা সম্ভব; কিন্তু দেশীয় আইন অনুযায়ী সেটি ব্যবহার করার জন্য যোগ্যতা অবশ্যই থাকতে হবে। কোনো ভিপিএন সেবা ব্যবহারের আগে অবশ্যই সেটি ব্যবহার বৈধ কি না সেটি যাচাই করে নেয়া উচিত।

ডেস্ক////

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *