Dhaka ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৫, ৬ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে বিএফইউজে-ডিইউজে’র আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ১৯ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে অবকাশ : জরুরি মামলা শুনানিতে অবকাশকালীন বেঞ্চ জান প্রাণ দিয়ে জনআস্থা ধরে রাখতে হবে : তারেক রহমান বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যান সমিতির নতুন কমিটির অভিষেক : সভাপতি রফিকুল মহাসচিব সাত্তার সাংগঠনিক তোফাজ্জল কোটায় চাকরি : কুমিল্লার এসপি হচ্ছেন জুলাই বিপ্লবে গুলি করা ছাত্রলীগ ক্যাডার নাজির সম্প্রচারিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, কাল্পনিক এবং ভিত্তিহীন : সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন মতিঝিল থানা ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগসহ ১১টি দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধে নির্দেশনা চেয়ে রিট বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যান সমিতির সভাপতি রফিক, মহাসচিব সাত্তার সাংগঠনিক সম্পাদক তফাজ্জল বুড়িচং জগতপুরে অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব হয়ে গেছে একটি পরিবার

সাংবাদিকদের আয়কর সংক্রান্ত হাইকোর্ট রায় স্থগিত করেনি চেম্বার কোর্ট

  • Update Time : ১২:১৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই ২০২৩
  • / ১ Time View

সুপ্রিমকোর্ট প্রতিবেদক:
সংবাদপত্রের সাংবাদিক ও কর্মচারীদের নবম ওয়েজবোর্ডে গ্র্যাচুইটি ও আয়কর সংক্রান্ত মস্ত্রিসভার সুপারিশ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় স্থগিত করেনি আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্ট।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষে আনা এ সংক্রান্ত আবেদনের ওপর আপিল বিভাগে শুনানির জন্য আগামী ২৮ আগস্ট দিন ধার্য করে সোমবার আদেশ দিয়েছেন চেম্বার কোর্ট। চেম্বার জজ বিচারপতি এম, ইনায়েতুর রহিম উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে আজ শুনানি করেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান (জামান)।

রিট পিটিশনার বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সিনিয়র এডভোকেট ড. কাজী আকতার হামিদ। তার সঙ্গে ছিলেন এডভোকেট দিদারুল আলম দিদার।

এডভোকেট ড. কাজী আকতার হামিদ আজ চেম্বার কোর্টের আদেশ বিষয়টি গনমাধ্যমকে জানান। তিনি জানান, সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের

আয়কর ও আনুতোষিক সংক্রান্ত দুটি সুপারিশের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে গতবছর ৬ নভেম্বর রায় দেয় হাইকোর্ট। ফলে সাংবাদিক ও কর্মচারীদের আয়কর আগের মতোই কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে হবে। হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষে গতকাল রোববার একটি আবেদন দাখিল করা হয়। তারা আবেদনে হাইকোর্ট রায়টি স্থগিত চেয়েছে। আজ আদালতে আমরা বলেছি সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের আয়কর ও আনুতোষিক বিষয়ে ইতোপূর্বে আপিল বিভাগের রায় রয়েছে। সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের আয়কর ও আনুতোষিক নিয়ে মন্ত্রীসভা কমিটির সুপারিশ অবৈধ ঘোষনা করে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। শুনানি নিয়ে চেম্বার কোর্ট আজ হাইকোর্ট রায় স্থগিত করেননি। বিষয়টি আগামী ২৮ আগস্ট আবেদন আকারে আপিল বিভাগ বেঞ্চে শুনানির জন্য থাকবে বলে আদেশ দিয়েছেন।

ড. কাজী আকতার হামিদ বলেন, সাংবাদিকদের বেতনের অনুকুলে যে আয়কর হয় তা মালিকপক্ষ বা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের প্রান্তিক সুবিধা (প্রিঞ্জ বেনেফিট) হিসেবে সবসময় পেয়ে এসেছেন। এটি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতে রায় রয়েছে। আর বছরে মূল বেতনের সমান দুটি আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটি পাবেন বাসস এর সাংবাদিক-কর্মচারীরা
এটি বাসস রুলসে নিশ্চিত রয়েছে।

সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. নিজামুল হককে নবম সংবাদপত্র ওয়েজবোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়। এ বোর্ড অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা-পরামর্শের পর ‘নবম সংবাদপত্র ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদ’ চূড়ান্ত করে ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর তা তথ্য মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করে। ২০১৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করে সরকার।

সে প্রজ্ঞাপনের সপ্তম অধ্যায়ের ৩ নম্বর শর্তে বলা আছে, ‘সকল শ্রেণির সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার কর্মরত সাংবাদিক, প্রেস শ্রমিক এবং প্রশাসনিক কর্মচারীগণের বেতনের উপর আরোপিত আয়কর সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদেয় হবে। ’একই অধ্যায়ের ৭ নম্নবর শর্তে বলা হয়েছে, ‘সকল শ্রেণির সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার কর্মরত সাংবাদিক, প্রেস শ্রমিক এবং প্রশাসনিক কর্মচারীগণ প্রত্যেক বছরে অথবা তার অংশ বিশেষ ছয় মাস বা এর অধীক সময় চাকুরির জন্য সর্বেশেষ প্রাপ্ত বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারিত দুই মাসের মূল বেতনের সম পরিমাণ অর্থ গ্র্যাচুইটি হিসেবে প্রাপ্য হবেন।’ অথচ প্রজ্ঞাপনে ‘সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, কার্যকরণ ও প্রয়োগ’ শিরোনামের দ্বাদশ অধ্যায়ের ৪ নম্বর শর্তে মন্ত্রীসভা কমিটির সুপারিশ তুলে ধরে বলা হয়, সাংবাদিক, কর্মচারীদের নিজেদের আয় থেকে আয়কর পরিশোধ করবেন এবং বছরে মূল বেতনের সমান একটি গ্র্যাচুইটি পাবেন।

নবম ওয়েজবোর্ডের মন্ত্রীসভা কমিটির এই সুপারিশ চ্যালেঞ্জ করে ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুজ্জামান। তখন রিটটির প্রাথমিক শুনানির পর ওইবছরের ২৫ নভেম্বর আদালত রুল জারি করেন। রুলে আয়কর ও গ্র্যাচুইটি সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয়েছিল।

মন্ত্রি পরিষদ সচিব, তথ্য সচিব ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিবকে রুলের জাবাব দিতে বলা হয়। সে রুলের চূড়ান্ত শুনানির পর সুপারিশ দুটিকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।

ডিএএম/এমএস//

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সাংবাদিকদের আয়কর সংক্রান্ত হাইকোর্ট রায় স্থগিত করেনি চেম্বার কোর্ট

Update Time : ১২:১৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই ২০২৩

সুপ্রিমকোর্ট প্রতিবেদক:
সংবাদপত্রের সাংবাদিক ও কর্মচারীদের নবম ওয়েজবোর্ডে গ্র্যাচুইটি ও আয়কর সংক্রান্ত মস্ত্রিসভার সুপারিশ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় স্থগিত করেনি আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্ট।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষে আনা এ সংক্রান্ত আবেদনের ওপর আপিল বিভাগে শুনানির জন্য আগামী ২৮ আগস্ট দিন ধার্য করে সোমবার আদেশ দিয়েছেন চেম্বার কোর্ট। চেম্বার জজ বিচারপতি এম, ইনায়েতুর রহিম উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে আজ শুনানি করেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান (জামান)।

রিট পিটিশনার বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সিনিয়র এডভোকেট ড. কাজী আকতার হামিদ। তার সঙ্গে ছিলেন এডভোকেট দিদারুল আলম দিদার।

এডভোকেট ড. কাজী আকতার হামিদ আজ চেম্বার কোর্টের আদেশ বিষয়টি গনমাধ্যমকে জানান। তিনি জানান, সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের

আয়কর ও আনুতোষিক সংক্রান্ত দুটি সুপারিশের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে গতবছর ৬ নভেম্বর রায় দেয় হাইকোর্ট। ফলে সাংবাদিক ও কর্মচারীদের আয়কর আগের মতোই কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে হবে। হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষে গতকাল রোববার একটি আবেদন দাখিল করা হয়। তারা আবেদনে হাইকোর্ট রায়টি স্থগিত চেয়েছে। আজ আদালতে আমরা বলেছি সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের আয়কর ও আনুতোষিক বিষয়ে ইতোপূর্বে আপিল বিভাগের রায় রয়েছে। সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের আয়কর ও আনুতোষিক নিয়ে মন্ত্রীসভা কমিটির সুপারিশ অবৈধ ঘোষনা করে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। শুনানি নিয়ে চেম্বার কোর্ট আজ হাইকোর্ট রায় স্থগিত করেননি। বিষয়টি আগামী ২৮ আগস্ট আবেদন আকারে আপিল বিভাগ বেঞ্চে শুনানির জন্য থাকবে বলে আদেশ দিয়েছেন।

ড. কাজী আকতার হামিদ বলেন, সাংবাদিকদের বেতনের অনুকুলে যে আয়কর হয় তা মালিকপক্ষ বা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের প্রান্তিক সুবিধা (প্রিঞ্জ বেনেফিট) হিসেবে সবসময় পেয়ে এসেছেন। এটি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতে রায় রয়েছে। আর বছরে মূল বেতনের সমান দুটি আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটি পাবেন বাসস এর সাংবাদিক-কর্মচারীরা
এটি বাসস রুলসে নিশ্চিত রয়েছে।

সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. নিজামুল হককে নবম সংবাদপত্র ওয়েজবোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়। এ বোর্ড অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা-পরামর্শের পর ‘নবম সংবাদপত্র ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদ’ চূড়ান্ত করে ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর তা তথ্য মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করে। ২০১৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করে সরকার।

সে প্রজ্ঞাপনের সপ্তম অধ্যায়ের ৩ নম্বর শর্তে বলা আছে, ‘সকল শ্রেণির সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার কর্মরত সাংবাদিক, প্রেস শ্রমিক এবং প্রশাসনিক কর্মচারীগণের বেতনের উপর আরোপিত আয়কর সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদেয় হবে। ’একই অধ্যায়ের ৭ নম্নবর শর্তে বলা হয়েছে, ‘সকল শ্রেণির সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার কর্মরত সাংবাদিক, প্রেস শ্রমিক এবং প্রশাসনিক কর্মচারীগণ প্রত্যেক বছরে অথবা তার অংশ বিশেষ ছয় মাস বা এর অধীক সময় চাকুরির জন্য সর্বেশেষ প্রাপ্ত বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারিত দুই মাসের মূল বেতনের সম পরিমাণ অর্থ গ্র্যাচুইটি হিসেবে প্রাপ্য হবেন।’ অথচ প্রজ্ঞাপনে ‘সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, কার্যকরণ ও প্রয়োগ’ শিরোনামের দ্বাদশ অধ্যায়ের ৪ নম্বর শর্তে মন্ত্রীসভা কমিটির সুপারিশ তুলে ধরে বলা হয়, সাংবাদিক, কর্মচারীদের নিজেদের আয় থেকে আয়কর পরিশোধ করবেন এবং বছরে মূল বেতনের সমান একটি গ্র্যাচুইটি পাবেন।

নবম ওয়েজবোর্ডের মন্ত্রীসভা কমিটির এই সুপারিশ চ্যালেঞ্জ করে ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুজ্জামান। তখন রিটটির প্রাথমিক শুনানির পর ওইবছরের ২৫ নভেম্বর আদালত রুল জারি করেন। রুলে আয়কর ও গ্র্যাচুইটি সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয়েছিল।

মন্ত্রি পরিষদ সচিব, তথ্য সচিব ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিবকে রুলের জাবাব দিতে বলা হয়। সে রুলের চূড়ান্ত শুনানির পর সুপারিশ দুটিকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।

ডিএএম/এমএস//